Public App Logo
Profile Picture

Bengal Icon News

@namkhana.gmail.com
18563Followers
11Following
এবারের দুর্গাপূজা মানেই সন্ধ্যা রূপসজ্জা
বীরভূমের বাঘকে দেখানো হলো চ্যালা কাঠ। খোদ অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই তার পার্টি অফিসের ভিতরে ভাঙচুর
গঙ্গাসাগরে এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
সাগরে ডুব দিয়ে পূজো দিলেন কপিলমুনির মন্দিরে
খুব শীঘ্রই দুর্বল নদী বাঁধগুলি মেরামতের আশ্বাস বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল এর। সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়েদের বিভিন্ন দুর্বল নদীমাত গুলি করে দেখলেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক
Video 4
*জোড়া ফলায় ফুঁসছে সমুদ্র! মৌসুনিতে ২০০ মিটার বাঁধে ধস, ফ্রেজারগঞ্জে পরিদর্শনে বিধায়ক সুমন্ত*

অমিত মণ্ডল, নামখানা:
নিম্নচাপের ভ্রুকুটি আর পূর্ণিমার ভরা কোটালের জেরে ফের নদীভাঙনের কবলে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূল। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের দাপটে কোথাও নদী বাঁধে ধস নেমেছে, আবার কোথাও আস্ত কংক্রিটের বোল্ডার ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে গ্রামে জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভাঙন পরিদর্শনে শুক্রবার সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ফ্রেজারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।
নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কোটালের জেরে নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। বালিয়াড়া সল্টঘেরি এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদী বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, পয়লা ঘেরি এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। পূর্ণিমার কোটালের জেরে আরও জল বাড়ার পূর্বাভাস থাকায় প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে কাঁপছেন এই এলাকার মানুষ।
ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামের হাতি কর্নারের কাছে কংক্রিটের বোল্ডারে ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। উত্তাল ঢেউ যেকোনো মুহূর্তে গ্রামে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা।  এর পাশাপাশি সাগরের সুমতি নগর, মহিষমারি-সহ বিভিন্ন দুর্বল নদী বাঁধগুলিরও কিছু কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফ্রেজারগঞ্জের হাতি কর্নার এবং বিজয়বাটি গ্রামের কালিস্থানের দুর্বল নদী বাঁধগুলি পরিদর্শন করেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররা।
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে জানান, যে সমস্ত নদী বাঁধগুলি আংশিক ভেঙে গিয়েছে, সেগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি যে বাঁধগুলি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, বড় বিপদের আগেই সেগুলি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
অর্ণব ঝড়ের তাণ্ডবে ফুঁসছে সমুদ্র। বাঁধ উপচে জল ডুকছে গোবর্ধনপুরে 
<nis:link nis:type=tag nis:id=gobordhanpur nis:value=gobordhanpur nis:enabled=true nis:link/>
*এক ব্রিজ ভাঙার রেশ কাটতেই দ্বিতীয় সেতুতে বড় ফাটল! পাথরপ্রতিমায় ফের বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা*

অমিত মণ্ডল,পাথরপ্রতিমা:কয়েকদিন আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল কংক্রিটের আস্ত একটা সেতু! সেই আতঙ্ক আর দুর্ভোগের রেশ এখনও কাটেনি, আর তার মধ্যেই একই নদীর ওপর থাকা দ্বিতীয় সেতুতেও দেখা দিল বড়সড় ফাটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার আবাদ গঙ্গাধরপুর এলাকায় কালুয়া নদীর ওপর থাকা এই দ্বিতীয় সেতুটির বেহাল দশা ঘিরে এখন নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কয়েকদিন আগেই কালুয়া নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়ে। সেই সেতুর সংস্কার তো দূর, এবার নদীর অপর প্রান্তে থাকা প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সেতুটির গায়েও দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইঁট দিয়ে তৈরি এই সেতুর বিভিন্ন অংশ থেকে এখন বড় বড় চাঙড় খসে পড়ছে। উপর দিয়ে ভারী গাড়ি গেলেই কেঁপে উঠছে গোট সেতু।সেতু নির্মাণের সময় রেলিং দেওয়ার জন্য ইটের ঘেরা তৈরি হলেও আজও তা বসানো হয়নি। ফলে রাতের অন্ধকারে আলোর অভাবে এবং রেলিং না থাকায় যাত্রী-সহ টোটো খালে পড়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটেছে। 
সেতুর ওঠানামার মুখের রাস্তার অবস্থাও এতটাই খারাপ যে, টোটো বা বাইক সেতুতে তুলতে রীতিমতো ঠেলে নিয়ে যেতে হয়।সেতুর নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করে ভয় দেখানো হয়েছে!

এই দ্বিতীয় সেতুটিও যদি কোনোভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। 
খবর পেয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার তিনি নিজে ওই এলাকায় গিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করবেন। ইঞ্জিনিয়ার এবং দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই বড় কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার পরেই কি প্রশাসনের টনক নড়বে? কালুয়া নদীর দুই সেতুকে ঘিরে এখন সেই চরম আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন পাথরপ্রতিমার মানুষ।
দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, বিধায়কের আশ্বাসের এক মাসের মধ্যেই ঘোড়ামারায় পৌঁছালো পল্টন জেটি। 
<nis:link nis:type=tag nis:id=ghoramaraisland nis:value=GhoramaraIsland nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=ghoramara nis:value=ghoramara nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=sagar nis:value=sagar nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=gangasagarwestbengal nis:value=gangasagarwestbengal nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=kakdwip nis:value=kakdwip nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=bengaliconnews nis:value=bengaliconnews nis:enabled=true nis:link/>
*দশভুজা নন, অসুরও নেই—অভয়া রূপে পূজিতা মা, শিবপুরের পালবাড়ির পুজোয় আজও বেঁচে ৩৫৫ বছরের ইতিহাস*

Bengal icon news  হাওড়া: দেবীর হাতে দশটি অস্ত্র নেই। নেই অসুর বধের দৃশ্যও। দুই হাত তুলে তিনি যেন অভয় দেন তাঁর আপনজনদের। পাশে এক চালায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, তিনি ‘অভয়া’। হাওড়ার শিবপুরের পালবাড়ির দুর্গাপুজোর এই স্বাতন্ত্র্যই তাকে অন্য বনেদি বাড়ির পুজোর থেকে আলাদা করে চেনায়। এবার সেই পুজো পা দিল ৩৫৫ বছরে। সময় বদলেছে, বদলেছে চারপাশের পুজোর জৌলুস, কিন্তু পালবাড়ির ঠাকুরদালানে আজও টিকে রয়েছে কয়েক শতাব্দীর লোকাচার, বিশ্বাস আর পারিবারিক আবেগ। হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন এই পুজোর সূচনা করেছিলেন সর্বেশ্বর পাল। একসময় ধুমধাম করে পুজো হত। পরে সর্বেশ্বরবাবু পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন বটকৃষ্ণ পালের হাতে। সেই থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাল পরিবারের সদস্যরাই মায়ের আরাধনা করে আসছেন। কথিত আছে, এই দেবী আসলে অসুরবিনাশী নন। তিনি ‘অভয়া’—ভক্তের ভয় হরণকারী মায়ের রূপ। কুমোরটুলির শিল্পী বংশপরম্পরায় এই বাড়ির প্রতিমা গড়ে আসছেন। শুধু মৃৎশিল্পী নন, ঢাকিরাও বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বছরের পর বছর এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। মহালয়ার পর থেকেই চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে শুরু হয় পুজোর আবহ। শুক্লা তিথিতে মায়ের বোধন। সপ্তমীতে কলাবউ বা নবপত্রিকার স্নান গঙ্গায় নয়, হয় বাড়ির অন্দরেই। কিন্তু এই পুজোর সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রাচীন লোকাচারগুলির একটি হল পশুবলি। সপ্তমীতেই মায়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর পাঁঠাবলি হয়। অষ্টমীর পুজোয় অবশ্য বলির রীতি নেই। পরিবারের ৩০-৪০ জন মহিলা একসঙ্গে ধুনোপোড়ানোর পর হয় সন্ধিপুজো। সেই সময় রয়েছে পাঁঠাবলির প্রথা। নবমীর সকালে বাড়ির ভোগের সময় আরও একটি পাঁঠাবলি হয়। এরপর পাঁচটি ফলের বলি এবং সবশেষে মহিষ বলি। হ্যাঁ, ৩৫৫ বছরের পুরনো এই পুজোয় আজও মহিষ বলির রীতি চলে আসছে। বলি যাঁরা দেন তাঁরাই মহিষের দেহ নিয়ে যান। শুধু মাথাটি নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গায়। তবে পুজোর একেবারে শুরুর দিকে এই রীতি ছিল না। এর পিছনেও রয়েছে এক আশ্চর্য লোককথা। কথিত আছে, শিবপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজোয় পালবাড়ির দেবী ‘অভয়া’র বোন ‘মায়া’কে দুর্গারূপে পুজো করা হত। সেই রায়চৌধুরী বাড়িতে ছিল মহিষ বলির প্রথা। একবার নাকি সেখান থেকে একটি মহিষ হাঁড়িকাঠে মাথা দিয়ে শিবপুরের পালবাড়িতে চলে আসে। সেই ঘটনাকেই ঘিরে পরে পালবাড়িতে শুরু হয় মহিষ বলির রীতি। নবমীর পুজো শেষে মায়ের হোম ও দক্ষিণান্তর হয়। তারপর শুরু হয় বিসর্জনের প্রস্তুতি। দশমীতে বাড়ির মহিলারা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। কয়েক শতাব্দীর পুরনো এই পুজো আজ আগের মতো হয়তো জাঁকজমকপূর্ণ নয়। সময়ের সঙ্গে কমেছে জৌলুস, বেড়েছে আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার চাপ। তবু ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস করেনি পরিবার। পুজোর খরচ চালাতে পরিবারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে একটি ট্রাস্ট। সেই তহবিলে সঞ্চিত অর্থ থেকেই হয় মায়ের পুজো। আজ যখন থিমের পুজোর রমরমা, তখনও পালবাড়ি আঁকড়ে ধরে রেখেছে পুরনো দিনের নিয়মকানুন। তাই শিবপুরের পালবাড়ির পুজো শুধু ৩৫৫ বছরের একটি সংখ্যা নয়। এটি এক পরিবারের শিকড়ের গল্প, হারিয়ে যেতে বসা লোকাচারের গল্প, পূর্বপুরুষের বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে বর্তমান প্রজন্মের এগিয়ে চলার গল্প। ঝলমলে থিমের ভিড়ে যখন বদলে যাচ্ছে পুজোর চেনা চেহারা, তখনও পালবাড়ির ঠাকুরদালানে দুই হাত তুলে ‘অভয়া’ যেন বলে চলেছেন—সময় বদলাক, প্রজন্ম বদলাক, কিন্তু ঐতিহ্যের প্রদীপটি যেন নিভে না যায়।
*বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের জেরে উত্তাল সমুদ্র! পর্যটকদের সতর্ক করতে দিঘা প্রশাসনের মাইকিং*

Bengal icon news দিঘা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের যেরে উত্তাল হচ্ছে দিঘার সমুদ্র। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় জারি হয়েছে সতর্কতা। দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণি, জুনপুট ও পেটুয়াঘাট-সহ একাধিক সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে পর্যটক এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা সাবধান করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াচ্ছে। এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এরপর সেটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আশঙ্কা নেই, তবুও এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি এবং সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দিঘা-শঙ্করপুর উপকূলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সৈকত এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা পর্যটকদের সতর্ক করছেন। বিশেষ করে জোয়ারের সময় সমুদ্রের গভীরে না নামার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অনেক পর্যটক সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করছে প্রশাসন।

এদিকে মৎস্যজীবীদের জন্যও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। আগামী কয়েক দিন সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেসব ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা এখনও সমুদ্রে রয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত নিরাপদ ঘাটে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলেই এই সতর্কতা।

উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “পরিস্থিতির উপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। আবহাওয়া দফতর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা না থাকলেও সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ।"
পাড়া থানার চিতরা গ্রামে জালে আটকে বিশাল অজগর, উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

Bengal icon news, পুরুলিয়া:পুরুলিয়ার পাড়া থানার উদয়পুর-জয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিতরা গ্রামে বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ গ্রামের একটি জলাশয়ের পাশে সবজির বাগান আড়াল করার জন্য লাগানো জালে একটি বিশাল অজগর সাপ জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাপটিকে দেখতে ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়।পরবর্তীতে গ্রামের সাহসী যুবক সজল মাজী এবং পাড়া বন দফতরের এক কর্মীর সহযোগিতায় জালে আটকে থাকা অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে বন দফতরের কর্মীদের সহযোগিতায় সাপটিকে স্থানীয় একটি নিরাপদ জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। অজগর উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত সাপটিকে নিরাপদে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি ফেরে স্থানীয়দের মধ্যে।
Video 12
তিন বছর পর দেশে আইপিএল নিলাম, জানাল বিসিসিআই

Bengal icon news:তিন বছর পর ফের দেশের মাটিতে হতে চলেছে আইপিএলের নিলাম। ডিসেম্বরের নিলামের জন্য গোয়াকে বেছে নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।গত তিন বছর বিদেশের মাটিতে হয়েছে আইপিএলের নিলাম। ২০২৪ সালে দুবাই, ২০২৫ সালে জেড্ডা এবং ২০২৬ সালে আবু ধাবিতে বসেছিল আসর। এবার সেই ধারায় ছেদ পড়ছে। দেশে নিলাম ফিরিয়ে আনার কথা আগেই জানিয়েছিলেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল। এবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “টানা তিন বছর আইপিএলের নিলাম হয়েছে বিদেশে। সৌদি আরব, দুবাই এবং আবু ধাবির পর এবার আবার দেশের মাটিতেই নিলাম হবে। ডিসেম্বরের নিলামের জন্য গোয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে।” নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির কাছ থেকে মতামতও চেয়েছে বিসিসিআই। আলোচনায় রয়েছে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’-এর নিয়ম। এই নিয়ম নিয়ে ক্রিকেটমহলে অবশ্য বিতর্ক কম হয়নি। একাধিক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন। আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ম নিয়ে সাইকিয়া বলেন, “ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম নিয়ে আলোচনা জারি রয়েছে। এ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। সকলের মতামত জানার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।” কেবল নিলাম নয়, আগামী আইপিএলের সময়সূচি নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে বোর্ড। চলতি বছর জুনে বোর্ড সচিব জানিয়েছিলেন, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা এড়াতে এবার প্রতিযোগিতা কিছুটা এগিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মার্চের ১০ তারিখের মধ্যে আইপিএল শুরু করে মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
*মায়াজালে বাঁধা পুরনো বাড়ির গল্প, নিজেদের হাতেই পুজোর মণ্ডপ—খাঁটোরা পঞ্চাননতলায় থিমে এবার ‘মায়াজাল’*

Bengal icon news , হাওড়া: ডোমজুড়ের খাঁটোরা পঞ্চাননতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার পা দিল ১৭ বছরে। আর ১৭তম বর্ষে পাড়ার পুজোয় নতুন আকর্ষণ ‘মায়াজাল’। কোনও নামী শিল্পী বা পেশাদার সংস্থার হাতে নয়, বাঁশ বাঁধা থেকে শুরু করে মণ্ডপের শেষ আঁচড়—সবটাই নিজেদের হাতে তৈরি করছেন খাঁটোরা পঞ্চাননতলা সেবা সমিতির সদস্যরা। তাই এই পুজো তাঁদের কাছে শুধুই উৎসব নয়, যেন নিজেদের ঘরের পুজো। এবারের মণ্ডপ ভাবনায় উঠে আসছে পুরনো বাড়ির আবহ। মণ্ডপের সামনে থাকছে পুরনো বাড়ির আদলে তৈরি পাঁচিল। আর সেই পাঁচিলের উপরেই যেন সময়ের সঙ্গে জমে থাকা বিশাল এক মাকড়সার জাল। সেই জাল থেকেই তৈরি হবে রহস্যময় ‘মায়াজাল’-এর আবহ। মণ্ডপের ভিতরেও থাকছে নানা চমক। বাঁশ, ত্রিপল, শোলা-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে নিজেদের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছেন ক্লাবের সদস্যরাই। গত কয়েক বছর ধরেই নিজেদের হাতে থিমের মণ্ডপ তৈরি করে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন তাঁরা। তাই পুজোর আগে মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা তাঁদের কাছে শুধু দায়িত্ব নয়, একসঙ্গে নতুন কিছু গড়ে তোলার আনন্দ। দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁদের প্রতি বছর আরও নতুন কিছু করার উৎসাহ জোগায়। থিমের মণ্ডপের পাশাপাশি দেবীর রূপে থাকছে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। একচালার সাবেকি প্রতিমায় পুজিত হবেন মা দুর্গা। শিল্পী দিলীপ পাল টানা ১৭ বছর ধরে এই পুজোর প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। ফলে প্রতিমার সঙ্গে উদ্যোক্তা ও এলাকার মানুষের সম্পর্কও যেন পারিবারিক। নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনেই ঘরের পুজোর মতো করে দেবীর আরাধনা করা হয় এখানে। মণ্ডপের পাশাপাশি আলোকসজ্জাতেও থাকছে নতুন ভাবনা। পুজোর উদ্বোধনের দিন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি এলাকার শিল্পীদের নিয়েও থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফলে শারদ উৎসবের আনন্দের সঙ্গে মিশে যাবে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির স্বাদ। খাঁটোরা পঞ্চাননতলার পুজোর আর একটি নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে বিসর্জনের দিনে। মণ্ডপের সামনেই প্রতিষ্ঠিত একটি পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। নিরঞ্জনের দিন সিঁদুর খেলাও এখানকার বহুদিনের পরম্পরা। পাড়ার মহিলাদের উচ্ছ্বাস, ঢাকের বাদ্যি আর বিসর্জনের আবেগে শেষ হয় উৎসবের দিনগুলি। ডোমজুড়ের সরকার ব্রাদার্সের মোড় থেকে টোটোয় মিনিট দশেকের পথ। সাপডাঙা মোড়ে নেমে আরও কিছুটা হাঁটা। তবে সেই পথও যেন পুজো পরিক্রমারই অংশ। দু’পাশে একের পর এক ছোট-বড় পুজোমণ্ডপ, ঢাকের আওয়াজ, আলোর ঝলকানি আর পাড়ার মানুষের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে পথটাই হয়ে ওঠে উৎসবের অংশ। এই গ্রামেই ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫টি দুর্গাপুজো। সেই ভিড়ে খাঁটোরা পঞ্চাননতলার ‘মায়াজাল’ দর্শনার্থীকে হয়তো থমকে দাঁড় করাবে। কিন্তু এই পুজোর আসল সৌন্দর্য মণ্ডপের পাঁচিল, মাকড়সার জাল কিংবা আলোর খেলায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে পাড়ার ছেলেদের হাতে বাঁশ বাঁধায়, রাত জেগে মণ্ডপ তৈরির পরিশ্রমে, একসঙ্গে পরিকল্পনা করার আনন্দে এবং বিসর্জনের দিন চোখের কোণে জমে থাকা জলে। ১৭ বছর ধরে নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা আর নিষ্ঠায় পুজোকে বড় করে তুলেছেন খাঁটোরার মানুষ। তাই এখানে দুর্গাপুজো মানে শুধু চার দিনের উৎসব নয়; এ যেন সারা বছরের অপেক্ষার পর আপনজনদের কাছে ফিরে আসা। মা আসেন, আলো জ্বলে, ঢাক বাজে, সিঁদুরে রাঙা হয় মুখ। তারপর একদিন মা চলেও যান। থেকে যায় স্মৃতি, বিসর্জনের বিষণ্ণতা আর পরের বছরের অপেক্ষা। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে খাঁটোরা পঞ্চাননতলার সবচেয়ে বড় ‘মায়াজাল’—যে মায়া একবার জড়িয়ে ধরলে ছেড়ে আসা যায়, কিন্তু মন থেকে কখনও ছেড়ে আসা যায় না।
তিস্তার ভয়ংকর স্রোতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল মাত্র ৩–৪ দিনের এক ছোট্ট হাতিশাবক।

এতটুকু প্রাণ, অথচ নদীর স্রোত ছিল ভয়ংকর।
পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায় মা হাতিটি ছুটে বেড়াচ্ছিল, আর্তনাদ করছিল—কিন্তু সন্তানের কাছে পৌঁছানোর কোনো উপায় ছিল না…
এক মায়ের সেই অসহায় কান্না হয়তো সেদিন নদীর গর্জনকেও হার মানিয়েছিল। 

ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে উত্তাল তিস্তার বুকে নেমে পড়লেন পাঁচজন মৎস্যজীবি
অজয় দাস, বাবলু দাস, গোপাল দাস, মিঠু দাস ও বিশ্বনাথ দাস। 

মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে তাঁরা লড়াই করলেন একটি নিষ্পাপ প্রাণকে বাঁচাতে।
অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ছোট্ট হাতিশাবকটি।
*লটারির টিকিটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হুটমুড়া বাজারে পুলিশের অভিযানে নগদ-সহ ২৫২ টিকিট উদ্ধার* 

Bengal icon news , পিউ নন্দী : লটারির টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে বৈধ নথি দেখাতে না পারার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে হুটমুড়া বাজারে দুটি লটারি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৫২টি সন্দেহভাজন জাল বা অনুমোদনহীন টিকিট উদ্ধার করল পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্রির ৩,৬৭০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার মফঃস্বল থানার অন্তর্গত হুরা রোডের হুটমুড়া বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। ডিএসপি (ডিইবি)-র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুটি লটারি দোকানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে হুটমুড়ার বাসিন্দা গোপী নাথ চৌধুরী এবং ধানবাদের গোপালপুরের বাসিন্দা নবীন গোরাইকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া টিকিটগুলিতে ‘Lucky Coupon’ লেখা রয়েছে। তবে টিকিটগুলির উৎস ও বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি ধৃতরা। সেই কারণেই টিকিটগুলিকে সন্দেহভাজন জাল বা অনুমোদনহীন হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর পুরুলিয়ার মফঃস্বল থানায় নির্দিষ্ট মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টিকিট কোথা থেকে এল, সেগুলি কীভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল এবং এই কারবারের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, নদী বাঁধ রক্ষা করতে ময়দানের নামলেন গ্রামবাসীরাই
পাঁচ বছরের মধ্যেই পাথরপ্রতিমায় ভেঙে পড়লো সেতু। কলা গাছের ভেলা বানিয়ে চলছে পারাপার 
<nis:link nis:type=tag nis:id=patharpratima nis:value=Patharpratima nis:enabled=true nis:link/> 
<nis:link nis:type=tag nis:id=bengaliconnews nis:value=bengaliconnews nis:enabled=true nis:link/>
Video 19
অ্যাকোয়া বায়ো-ডাইভারসিটি পার্কের ভাবনা বর্তির বিলে, ৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ৩ হাজার গাছে বদলে যাবে রূপ!  

Bengal icon news , বারাসাত: ব্যস্ত জীবনের মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর ঠিকানা হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বর্তির বিল। পরিযায়ী পাখির আনাগোনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, সবুজ প্রান্তর এবং নৌকাবিহারের সুযোগ সব মিলিয়ে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এই এলাকা। এবার সেই বর্তির বিলকে ঘিরেই আরও বড় পরিকল্পনার কথা সামনে আসছে। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিলটিকে ‘অ্যাকোয়া বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল আগেই।
বেরাবেড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাড়ে চারশো একর বিস্তীর্ণ এই জলাভূমি। স্থানীয়দের দাবি, লকডাউন-পরবর্তী সময় থেকে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে এখানে। চারদিক খোলা এই প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকলে খাদ্যের সন্ধানে  পাখিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। 

শুধু পাখি নয়, বিলের জলাভূমিতে রয়েছে একাধিক প্রজাতির মাছও। ফলে জলাভূমির এই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে প্রশাসনের তরফে ভবিষ্যতে এলাকাটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে বার্তির বিল সংলগ্ন পথকে সবুজে সাজিয়ে তুলতে সরকারি সহযোগিতায় বেঙ্গল ট্রি ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে প্রায় ৭ কিলোমিটার এই জলাভূমির পথে মোট ৩ হাজার দেশীয় ও স্থানীয় পরিবেশ-উপযোগী গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এদিন ৫০টি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে বর্তির বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বদলানোর কাজ শুরু হল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ থেকে ৪ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, চারাগুলির পরিচর্যা, জল দেওয়া, সুরক্ষা, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত নজরদারির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনও চারা নষ্ট হলে তার পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর ব্যবস্থাও রাখার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাস্তার দু’পাশে গাছ বড় হয়ে উঠলে এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনই তৈরি হতে পারে একটি সবুজ করিডর। এর ফলে পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি-সহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্যও খাদ্য ও আশ্রয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
বর্তির বিলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নৌকায় পর্যটকদের ঘোরানোর মাধ্যমে স্থানীয় মাঝিদের একাংশ উপার্জন করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ আসছেন ছবি তুলতে, কেউ প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে, আবার কখনও সিনেমা বা বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের শুটিংও হচ্ছে এই এলাকায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলাকায় পুলিশ টাওয়ারও বসানো হয়েছে।
তবে বছরের একটি বড় সময় এই জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় ধান, পেঁয়াজ-সহ বিভিন্ন চাষাবাদও হয়। ফলে পর্যটন, কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ এবং জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখেই উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণের কাজ এগোলে আগামী কয়েক বছরে বার্তির বিল সংলগ্ন এলাকার চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর ২৪ পরগনার মানচিত্রে বার্তির বিল আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকেন্দ্র  ও পর্যটন স্থল হিসেবে উঠে আসবে।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট আমিষ না নিরামিষ? জানানো বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র

Bengal icon news এবার থেকে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট-সহ যাবতীয় প্রসাধনী এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের মোড়কে উল্লেখ থাকবে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ না আমিষ। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রের উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক।সম্প্রতি ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ সংশোধন করেছে উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে কোনও পণ্য নিরামিষ না আমিষ, তা বাধ্যতামূলক ভাবে উল্লেখ করতে হবে। নিরামিষ পণ্যের মোড়কের গায়ে একটি সবুজ বিন্দু থাকতে হবে। আমিষ হলে থাকবে লাল অথবা বাদামী বিন্দু। এই চিহ্ন প্যাকেটের উপর এমন ভাবে রাখতে হবে, যাতে করে সহজেই ক্রেতার চোখে পড়ে।সূত্রের খবর, উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ সংশোধিত আইন সোমবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। নতুন আইনের ফলে পণ্যের ভিতরে কী আছে ভেবে আর আতঙ্কিত হতে হবে না নিরামিষভোজীদের। কেনার সময়েই তার আমিষ ও নিরামিষ পণ্য যাচাই করে নিতে পারবেন।
রামমন্দির প্রণামী চুরি মামলায় বিশেষ আদালতে গিয়েও জামিন পেলেন না ৩ অভিযুক্ত

Bengal icon news সোমবার রামমন্দিরের প্রণামী চুরি মামলায় তিন অভিযুক্তের জামিনের আর্জি খারিজ করল অযোধ্যার বিশেষ আদালত।দুর্নীতিদমন আদালতের বিশেষ বিচারক রজত বর্মা এ দিন অবিনাশ শুক্ল, মনীশ কুমার যাদব ও রাম শঙ্কর মিশ্রের জামিন-আর্জি শোনেন। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর এই তিন অভিযুক্তের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়ে ২১ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল। সোমবার শুনানির পর আরও বাড়ল সেই মেয়াদ।বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের যে ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, সেই ধারা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেহেতু অভিযুক্তেরা কেউই সরকারি কর্মচারী নন, সেহেতু এই অভিযোগ ধোপে টেকে না।‘‘পুলিশ ভুল ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই দু’টি ধারা যদি প্রমাণ না-করা যায়, তবে বাকি ধারাগুলির ভিত্তিতে বড়জোর ৭ বছরের কারাবাস হতে পারে। পুলিশের আইনজীবী জানান, এখনও চার্জশিট তৈরি হয়নি। তবু জামিনের আর্জি খারিজ করল আদালত,’’ বলেন আইনজীবী সিংহ।তিনি আরও জানান, মোট ৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ আরও তিন জনের জামিনের আর্জি শুনবে আদালত। বাকি দু’জনের শুনানি হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে কেস ডাইরি ও বিস্তারিত তদন্তের ফলাফল জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল।গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এসআইটি-র রিপোর্ট বলছে, অযোধ্যার রামমন্দিরের সিসি ক্যামেরায় ১০৫ বার প্রণামী চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২৫ জুন ৮ জনকে গ্রেফতার করে এসআইটি। ধৃত ৮ জনই দানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর প্রায় ৮ কোটি টাকা লুট হয়েছে। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দিরের ট্রাস্টের সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের। সেই ঘটনা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হতেই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রায়। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) অনিল মিশ্রও পদত্যাগ করেন।
শেফালির বিশ্বরেকর্ড, এশিয়ান গেমসের ফাইনালে নজির গড়লেন ভারতীয় ওপেনার

Bengal icon news এশিয়ান গেমসে বিশ্বরেকর্ড করলেন শেফালি বর্মা। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করেছিলেন শতরান। আর ফাইনালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক বছরে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড গড়েছেন ভারতীয় ওপেনার।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই নিজেদের মানসিকতা স্পষ্ট করে দেয় ভারত। এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি। দু’জনেই একের পর এক বড় শট মারছিলেন।বাউন্ডারি ছোট হওয়ায় খানিকটা সুবিধাই হয় ভারতীয় ব্যাটারদের। পাওয়ার প্লে-তে বিনা উইকেটে ৬৭ রান করে ভারত। সেখানেই ভিত তৈরি হয়ে যায়। আগের ম্যাচের শতরান করেছিলেন শেফালি। এই ম্যাচে ভাল দেখালেও বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে থাকতে পারেননি। ২৯ বলে ৪৮ রান করে চামুদি প্রবোদার বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন ভারতীয় ওপেনার।এই ইনিংসের পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড করেছেন শেফালি। এক বছরে ছোট ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন তিনি। সাউথ আফ্রিকার উলভার্টকে টপকে সবচেয়ে বেশি রান করতে মাত্র ১০ রান দরকার ছিল শেফালির। সেখানে ৪৮ রান করেছেন তিনি।চলতি বছর ২৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮৬৩ রান করেছেন শেফালি। ৩৯.২২ গড় ও ১৬২.৮৩ স্ট্রাইক রেটে এই রান করেছেন তিনি। একটি শতরান ও সাতটি অর্ধশতরান করেছেন। সর্বাধিক অপরাজিত ১০০। সতীর্থ স্মৃতি রয়েছেন ছ’নম্বরে। চলতি বছর ২২ ম্যাচে ৭৬৫ রান করেছেন তিনি। একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেফালি আউট হলেও রান তোলার গতি কমতে দেননি স্মৃতি। ভাল দেখাচ্ছিল তাঁকে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর অবশ্য এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি। ৪৫ বলে ৭৯ রান করে আউট হন স্মৃতি। পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা মারেন তিনি।স্মৃতি আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ২০০ রান হবে না। কিন্তু তখনও ক্রিজ়ে ছিলেন রিচা। তিনি আরও এক বার দেখালেন, কেন মহিলাদের বিশ্বক্রিকেটে অন্যতম সেরা ফিনিশার ধরা হয় তাঁকে। মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেললেন। ছ’টি চার ও তিনটি ছক্কা মারলেন বাংলার ব্যাটার। তাঁর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রানে পৌঁছোয় ভারত।
সাত সাহেবের বিবি: খুনের কিংবদন্তি, না ইতিহাসের বিকৃতি? চুঁচুড়ার আয়েশবাগে ২১৭ বছরের সমাধি ঘিরে চাঞ্চল্যকর সত্য কপি ও ছবি। 

Bengal icon news , হুগলি:চুঁচুড়ার আয়েশবাগের নির্জন প্রান্তে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাদা রঙের আট-কোনা এক সমাধিসৌধ। গম্বুজ, খিলান আর স্তম্ভে সাজানো স্থাপত্যটি দূর থেকে ছোট্ট প্রাসাদের মতো দেখায়। কিন্তু এই সমাধিকে ঘিরেই প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার অন্যতম আলোচিত কিংবদন্তি—'সাত সাহেবের বিবি' সুস্যানা আন্না মারিয়া ভেরকেরের গল্প। জনশ্রুতি বলেছে, তিনি নাকি সাতজন ইউরোপীয় স্বামীকে একে একে বিয়ে করেছিলেন, আর প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছিল রহস্যজনকভাবে। কিন্তু পুরনো দলিল, চার্চের রেজিস্টার ও উইল খুলে দিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইতিহাস।
ঐতিহাসিক নথি বলছে, সুস্যানার জীবনে স্বামী ছিলেন মাত্র দু'জন—পিটার ব্রুইস এবং থমাস ইয়েটস। অর্থাৎ সাত স্বামীর রোমাঞ্চকর কাহিনির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আজও মেলেনি। বরং লোককথাই সময়ের সঙ্গে ইতিহাসকে ঢেকে দিয়েছে।
অষ্টাদশ শতকে চুঁচুড়া ছিল ওলন্দাজদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সেই সময়ের এক বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ওলন্দাজ পরিবারেই জন্ম সুস্যানা আন্না মারিয়া ভেরকেরের। তাঁর প্রথম বিয়ে হয় চুঁচুড়ার ওলন্দাজ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী পিটার ব্রুইসের সঙ্গে। তাঁদের তিন সন্তান—দুই মেয়ে সুস্যানা জ্যাকোবা, মারিয়া আন্না এবং ছেলে লুই আদ্রিয়ান। ১৭৮৩ সালে পিটার ব্রুইসের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সুস্যানার কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্রের প্রমাণ ইতিহাসে নেই।
এরপর ১৭৯৫ সালের ৩০ মার্চ কলকাতার সেন্ট জনস চার্চে সুস্যানার দ্বিতীয় বিয়ে হয় ইংরেজ ব্যবসায়ী থমাস ইয়েটসের সঙ্গে। ইয়েটসেরও মৃত্যু হয় সুস্যানার আগে। এখানেই শেষ তাঁর নথিভুক্ত বৈবাহিক ইতিহাস।
তাহলে 'সাত সাহেবের বিবি' নাম এল কোথা থেকে? স্থানীয় লোকমুখে সুস্যানার সমাধিকে ঘিরে ধীরে ধীরে তৈরি হয় সাত স্বামীর রহস্যময় মৃত্যুর গল্প। সময়ের সঙ্গে সেই কাহিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, বাস্তব ইতিহাস প্রায় আড়ালেই চলে যায়।
বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে ফ্লোরিস কাপ-এর নাম। কোথাও কোথাও তাঁকে সুস্যানার তৃতীয় স্বামী বলা হলেও পারিবারিক নথি জানাচ্ছে, তিনি ছিলেন সুস্যানার মা আদ্রিয়ানা রাতসের স্বামী—অর্থাৎ সুস্যানার সৎপিতা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল সামনে আসে সুস্যানার ১৮০৫ সালের ২১ নভেম্বরের উইলে। সেখানে তিনি নিজের সম্পত্তির বড় অংশ ছেলে লুই আদ্রিয়ানের নামে রেখে যান। পাশাপাশি ৪,০০০ টাকা দিয়ে একটি ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দেন, যাতে সেই অর্থের সুদে তাঁর নিজের সমাধি এবং দুই স্বামীর সমাধির রক্ষণাবেক্ষণ হয়। অতিরিক্ত অর্থ দরিদ্র মানুষের সাহায্যে ব্যয় করার নির্দেশও ছিল। যে নারীকে লোককথা ধারাবাহিক মৃত্যুর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে, তাঁর নিজের নথিই বরং মানবিকতার অন্য ছবি তুলে ধরে।
১৮০৯ সালের ১২ মে সুস্যানার মৃত্যু হয়। তাঁকে তালডাঙার আয়েশবাগে সমাধিস্থ করা হয়। তখন প্রায় ৬০ বিঘা জমির বিস্তীর্ণ সম্পত্তি ছিল সেখানে। পরে ১৮২৪ সালে ওলন্দাজরা ভারতের বাণিজ্যকেন্দ্র ব্রিটিশদের হাতে ছেড়ে দিলে মালিকানার বদল ঘটে। ১৮৩৩ সালে বিক্রি হয়ে যায় আয়েশবাগের জমি। বাড়ি হারিয়ে গেলেও টিকে থাকে সাদা আট-কোনা সমাধিসৌধটি। বর্তমানে তার পাশেই রয়েছে টেকনো ইন্ডিয়ার পরিচালনায় নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি অফ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ।
চুঁচুড়ার এই কিংবদন্তি পরে পৌঁছে যায় বিশ্বসাহিত্য ও সিনেমায়। রুস্কিন বন্ড লেখেন Susanna's Seven Husbands, আর সেই কাহিনি অবলম্বনে বিশাল ভরদ্বাজ ২০১১ সালে নির্মাণ করেন '৭ খুন মাফ'। সুস্যানার চরিত্রে অভিনয় করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তবে সেই চরিত্র ছিল লোককথা ও কল্পনার নির্মাণ—ঐতিহাসিক সুস্যানা নন।
ফলে আয়েশবাগের এই সমাধিসৌধের সবচেয়ে বড় রহস্য হয়তো খুনের নয়; বরং ইতিহাসকে কীভাবে লোকবিশ্বাস, সাহিত্য ও সিনেমা বদলে দেয়, তারই এক জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে চুঁচুড়ার 'সাত সাহেবের বিবি'র সমাধি।