
*এক ব্রিজ ভাঙার রেশ কাটতেই দ্বিতীয় সেতুতে বড় ফাটল! পাথরপ্রতিমায় ফের বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা*
অমিত মণ্ডল,পাথরপ্রতিমা:কয়েকদিন আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল কংক্রিটের আস্ত একটা সেতু! সেই আতঙ্ক আর দুর্ভোগের রেশ এখনও কাটেনি, আর তার মধ্যেই একই নদীর ওপর থাকা দ্বিতীয় সেতুতেও দেখা দিল বড়সড় ফাটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার আবাদ গঙ্গাধরপুর এলাকায় কালুয়া নদীর ওপর থাকা এই দ্বিতীয় সেতুটির বেহাল দশা ঘিরে এখন নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কয়েকদিন আগেই কালুয়া নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়ে। সেই সেতুর সংস্কার তো দূর, এবার নদীর অপর প্রান্তে থাকা প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সেতুটির গায়েও দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইঁট দিয়ে তৈরি এই সেতুর বিভিন্ন অংশ থেকে এখন বড় বড় চাঙড় খসে পড়ছে। উপর দিয়ে ভারী গাড়ি গেলেই কেঁপে উঠছে গোট সেতু।সেতু নির্মাণের সময় রেলিং দেওয়ার জন্য ইটের ঘেরা তৈরি হলেও আজও তা বসানো হয়নি। ফলে রাতের অন্ধকারে আলোর অভাবে এবং রেলিং না থাকায় যাত্রী-সহ টোটো খালে পড়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
সেতুর ওঠানামার মুখের রাস্তার অবস্থাও এতটাই খারাপ যে, টোটো বা বাইক সেতুতে তুলতে রীতিমতো ঠেলে নিয়ে যেতে হয়।সেতুর নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করে ভয় দেখানো হয়েছে!
এই দ্বিতীয় সেতুটিও যদি কোনোভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
খবর পেয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার তিনি নিজে ওই এলাকায় গিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করবেন। ইঞ্জিনিয়ার এবং দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই বড় কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার পরেই কি প্রশাসনের টনক নড়বে? কালুয়া নদীর দুই সেতুকে ঘিরে এখন সেই চরম আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন পাথরপ্রতিমার মানুষ।