
অ্যাকোয়া বায়ো-ডাইভারসিটি পার্কের ভাবনা বর্তির বিলে, ৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ৩ হাজার গাছে বদলে যাবে রূপ!
Bengal icon news , বারাসাত: ব্যস্ত জীবনের মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর ঠিকানা হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বর্তির বিল। পরিযায়ী পাখির আনাগোনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, সবুজ প্রান্তর এবং নৌকাবিহারের সুযোগ সব মিলিয়ে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এই এলাকা। এবার সেই বর্তির বিলকে ঘিরেই আরও বড় পরিকল্পনার কথা সামনে আসছে। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিলটিকে ‘অ্যাকোয়া বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল আগেই।
বেরাবেড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাড়ে চারশো একর বিস্তীর্ণ এই জলাভূমি। স্থানীয়দের দাবি, লকডাউন-পরবর্তী সময় থেকে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে এখানে। চারদিক খোলা এই প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকলে খাদ্যের সন্ধানে পাখিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
শুধু পাখি নয়, বিলের জলাভূমিতে রয়েছে একাধিক প্রজাতির মাছও। ফলে জলাভূমির এই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে প্রশাসনের তরফে ভবিষ্যতে এলাকাটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে বার্তির বিল সংলগ্ন পথকে সবুজে সাজিয়ে তুলতে সরকারি সহযোগিতায় বেঙ্গল ট্রি ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে প্রায় ৭ কিলোমিটার এই জলাভূমির পথে মোট ৩ হাজার দেশীয় ও স্থানীয় পরিবেশ-উপযোগী গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এদিন ৫০টি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে বর্তির বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বদলানোর কাজ শুরু হল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ থেকে ৪ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, চারাগুলির পরিচর্যা, জল দেওয়া, সুরক্ষা, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত নজরদারির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনও চারা নষ্ট হলে তার পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর ব্যবস্থাও রাখার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাস্তার দু’পাশে গাছ বড় হয়ে উঠলে এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনই তৈরি হতে পারে একটি সবুজ করিডর। এর ফলে পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি-সহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্যও খাদ্য ও আশ্রয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
বর্তির বিলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নৌকায় পর্যটকদের ঘোরানোর মাধ্যমে স্থানীয় মাঝিদের একাংশ উপার্জন করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ আসছেন ছবি তুলতে, কেউ প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে, আবার কখনও সিনেমা বা বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের শুটিংও হচ্ছে এই এলাকায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলাকায় পুলিশ টাওয়ারও বসানো হয়েছে।
তবে বছরের একটি বড় সময় এই জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় ধান, পেঁয়াজ-সহ বিভিন্ন চাষাবাদও হয়। ফলে পর্যটন, কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ এবং জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখেই উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণের কাজ এগোলে আগামী কয়েক বছরে বার্তির বিল সংলগ্ন এলাকার চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর ২৪ পরগনার মানচিত্রে বার্তির বিল আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকেন্দ্র ও পর্যটন স্থল হিসেবে উঠে আসবে।