
রামমন্দির প্রণামী চুরি মামলায় বিশেষ আদালতে গিয়েও জামিন পেলেন না ৩ অভিযুক্ত
Bengal icon news সোমবার রামমন্দিরের প্রণামী চুরি মামলায় তিন অভিযুক্তের জামিনের আর্জি খারিজ করল অযোধ্যার বিশেষ আদালত।দুর্নীতিদমন আদালতের বিশেষ বিচারক রজত বর্মা এ দিন অবিনাশ শুক্ল, মনীশ কুমার যাদব ও রাম শঙ্কর মিশ্রের জামিন-আর্জি শোনেন। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর এই তিন অভিযুক্তের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়ে ২১ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল। সোমবার শুনানির পর আরও বাড়ল সেই মেয়াদ।বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের যে ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, সেই ধারা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেহেতু অভিযুক্তেরা কেউই সরকারি কর্মচারী নন, সেহেতু এই অভিযোগ ধোপে টেকে না।‘‘পুলিশ ভুল ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই দু’টি ধারা যদি প্রমাণ না-করা যায়, তবে বাকি ধারাগুলির ভিত্তিতে বড়জোর ৭ বছরের কারাবাস হতে পারে। পুলিশের আইনজীবী জানান, এখনও চার্জশিট তৈরি হয়নি। তবু জামিনের আর্জি খারিজ করল আদালত,’’ বলেন আইনজীবী সিংহ।তিনি আরও জানান, মোট ৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ আরও তিন জনের জামিনের আর্জি শুনবে আদালত। বাকি দু’জনের শুনানি হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে কেস ডাইরি ও বিস্তারিত তদন্তের ফলাফল জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল।গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এসআইটি-র রিপোর্ট বলছে, অযোধ্যার রামমন্দিরের সিসি ক্যামেরায় ১০৫ বার প্রণামী চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২৫ জুন ৮ জনকে গ্রেফতার করে এসআইটি। ধৃত ৮ জনই দানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর প্রায় ৮ কোটি টাকা লুট হয়েছে। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দিরের ট্রাস্টের সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের। সেই ঘটনা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হতেই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রায়। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) অনিল মিশ্রও পদত্যাগ করেন।