অটোতে ফেলে যাওয়া ৮০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য নজির গড়লেন উদয়পুরের অটোচালক আক্তার হোসেন।
টাকার লোভ মানুষকে অন্ধ করে—সমাজজুড়ে চলা এই বহুল প্রচলিত ধারণাকে আরও একবার মিথ্যা প্রমাণ করলেন উদয়পুরের সাধারণ এক অটোরিকশা চালক। গাড়িতে যাত্রীর ভুলে ফেলে যাওয়া নগদ ৮০ হাজার টাকা ভর্তি ব্যাগ বিন্দুমাত্র প্রলোভনে না পড়ে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়ে সততা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উদয়পুর রাজধরনগর এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ মেলাঘরের ব্যবসায়ী রতন সূত্রধর উদয়পুর রমেশ চৌমুহনী থেকে কাকরাবন মোটরস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। রাত ৯টা নাগাদ গন্তব্যে পৌঁছে তাড়াহুড়োর মাথায় তিনি নিজের গুরুত্বপূর্ণ টাকার ব্যাগটি অটোরিকশার পেছনের আসনেই ফেলে রেখে নেমে যান।
পরদিন রবিবার সকালে প্রতিদিনের নিয়ম মেনে অটোরিকশাটি পরিষ্কার করার সময় পেছনের আসনে পরিত্যক্ত ব্যাগটি নজরে আসে চালক আক্তার হোসেনের। ব্যাগের মালিককে শনাক্ত করতে সেটি খুলতেই ভেতরে থরে থরে সাজানো নগদ নোটের বান্ডিল দেখতে পান তিনি; গুনে দেখা যায় সেখানে রয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
আর্থিক টানাটানির সংসার হওয়া সত্ত্বেও এত পরিমাণ টাকা দেখে প্রলোভনে পা দেননি আক্তার। তিনি ব্যাগের ভেতরে তন্নতন্ন করে খুঁজে একটি ফোন নম্বর পান এবং কালবিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ ওই নম্বরে যোগাযোগ করেন। ফোন করতেই অপরপ্রান্ত থেকে জানা যায় ব্যাগটি ব্যবসায়ী রতন সূত্রধরের, যিনি সারা রাতের মানসিক কষ্টে দিশেহারা অবস্থায় ছিলেন।
টাকার সন্ধান পেয়ে রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ উদয়পুরে ছুটে আসেন ব্যবসায়ী রতন সূত্রধর। এরপর রাজারবাগ গর্জনমুড়া অটোরিকশা স্ট্যান্ডে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন ও সহকর্মী অটোরিকশাচালকদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ টাকা আক্তার হোসেন নিজ হাতে তাঁর হাতে তুলে দেন। খোয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা অক্ষত অবস্থায় ফেরত পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী এবং আক্তার হোসেনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বর্তমান সমাজে পেশায় অতি সাধারণ এক অটোচালকের এমন মহৎ ও নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ শুধু উদয়পুরেই নয়, গোটা রাজ্যবাসীর কাছে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আক্তার হোসেনের এই বিরল সততাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে স্থানীয় অটো শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ।