*‘গর্বিত পশ্চিমবঙ্গ, গর্বিত গোটা দেশ!’ বকখালি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে দুর্গম জম্বুদ্বীপে উড়ল তেরঙ্গা, জওয়ানদের কুর্নিশ জানিয়ে পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর*
অমিত মণ্ডল, বকখালি:
প্রতিকূল আবহাওয়া, উত্তাল সমুদ্র আর দুর্গম ভূখণ্ড,কোনো কিছুই বাধা হতে পারল না অদম্য দেশপ্রেমের কাছে! বকখালি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে জনবসতিহীন এবং অত্যন্ত দুর্গম জম্বুদ্বীপে স্বাধীনতা দিবসে সগর্বে উড়ল ভারতের জাতীয় পতাকা। কোস্টাল সিকিউরিটির জওয়ানদের এই অসামান্য সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে কুর্নিশ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ও বার্তা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেশের সার্বভৌমত্ব তুলে ধরতে এবার এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।১০২টি সুন্দরবনের ৫৪টি বসতিপূর্ণ এবং ৪৮টি জনবসতিহীন মিলিয়ে মোট ১০২টি দ্বীপে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের এক বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই বকখালি প্রায় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে জম্বুদ্বীপে এই তেরঙ্গা তোলা হয়।
প্রবল প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এই অভিযান সফল হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের বুকে পশ্চিমবঙ্গের একেবারে দক্ষিণতম প্রান্ত জম্বুদ্বীপে কোস্টাল সিকিউরিটির আইজি নিজে উপস্থিত থেকে এই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।জাতীয় পতাকা উত্তোলনে কোস্টাল সিকিউরিটির আইজির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, নামখানার এসডিপিও, সি আই,বকখালি বনদপ্তরের রেঞ্জার এবং ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল লক্ষ্মীবাহিনীর জওয়ান সহ ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার ওসি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জম্বুদ্বীপে পতাকা উত্তোলনের ভিডিও পোস্ট করে দীর্ঘ বার্তায় জওয়ানদের কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,"স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের সাহসী ও কর্তব্যনিষ্ঠ জওয়ানদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কুর্নিশ। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত ও চ্যালেঞ্জিং ভূখণ্ডে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি সাহস, অদম্য দেশপ্রেম এবং মাতৃভূমির প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার প্রতীক। এই ঐতিহাসিক অভিযানে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিক ও জওয়ানকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁদের এই অসামান্য কৃতিত্বে গর্বিত পশ্চিমবঙ্গ, গর্বিত গোটা দেশ।"