পুজোর পরেই ৩০ লক্ষ পরিবার পাবে ৬০ হাজার টাকা! নবান্নের বড় বার্তা
রাজ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়িয়েছে নবান্ন। সম্প্রতি প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর পরপরই রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ যোগ্য পরিবারকে আবাসন সহায়তার অংশ হিসেবে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হতে চলেছে। গ্রামীণ অঞ্চলের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তরান্বিত করতে বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে বৈঠক ও পরিদর্শন শুরু করেছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
প্রথম কিস্তিতে মিলবে ৬০,০০ টাকা
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY-G) আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ আবাস যোজনায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে আনুমানিক ৫৫ লক্ষ মানুষ নতুন করে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তবে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পায়, সে জন্য কড়া ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। চূড়ান্তভাবে যাচাই করা উপভোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ যোগ্য পরিবার প্রথম ধাপে এই আর্থিক সহায়তা পাবে।
বিডিও-দের কড়া নজরদারি ও পুনরায় সমীক্ষা
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে সমীক্ষায় লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়ার পর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিন দফায় যাচাই কাজ চলছে। তালিকায় অযোগ্য কারো নাম উঠে এলে বা কোনো অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিডিও (BDO)-দের ওপর তার দায় বর্তাবে। এই কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে নূন্যতম ৫ শতাংশ আবেদন পুনরায় সরজমিনে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আধিকারিকরা। পঞ্চায়েত মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অযোগ্য কোনো প্রাপক টাকা পেয়ে থাকলে নোটিশ পাঠিয়ে তা উদ্ধার করা হবে, এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে বরদাস্ত করা হবে না।
মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সাহায্য ও শৌচালয় ভাতা
আবাস যোজনায় বাড়ি নির্মাণের জন্য দুটি কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকার সঠিক ব্যবহার ও ভৌত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী কিস্তির টাকা উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তাছাড়াও, স্বচ্ছ ভারত মিশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিটি গৃহহীন পরিবারের শৌচালয় নির্মাণের জন্য আলাদাভাবে আরও ১২,০০০ টাকা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।