
কোলে নিজের নাতি, অথচ তাঁকে 'শিশুচোর' অপবাদে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ! উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া রেল স্টেশনে এক প্রবীণা মহিলার ওপর বর্বরোচিত এই হামলার ঘটনায় এখন রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গোটা ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া স্টেশনের দুই ও তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের ওপর। ঠিক তার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই রয়েছে জিআরপি অফিস। হাবড়ার মতো এত ব্যস্ততম স্টেশনে যেখানে সর্বক্ষণ আরপিএফ ও জিআরপি মজুত থাকে, ঠিক তার নাকের ডগায় একজন প্রবীণা মহিলাকে যেভাবে শিশু চুরির অপবাদে হেনস্থা ও মারধর খেতে হলো, তা হাবড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একশো শতাংশ প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নগরথুবা শিমুলতলার বাসিন্দা সারথি বাড়ৈ নিজের ছোট নাতিকে কোলে নিয়ে শিয়ালদহগামী ট্রেনের অপেক্ষায় ওই প্ল্যাটফর্মে বসেছিলেন। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন মহিলা এসে দাবি করেন, সারথির কোলে থাকা শিশুটি নাকি চুরি করা! বৃদ্ধা বারবার হাতজোড় করে ও কান্নাভরা কন্ঠে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে শিশুটি তাঁর নিজের মেয়ের ঘরের নাতি। কিন্তু মারমুখী মহিলারা তাঁর কোনো কথাই শোনেননি। উল্টে চুলের মুঠি ধরে তাঁকে স্টেশনের ওপরে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জিআরপি অফিসের ঠিক পাশেই এই ঘটনা ঘটলেও এবং প্ল্যাটফর্মে রেলপুলিশের এক কনস্টেবল উপস্থিত থাকলেও তিনি আক্রান্ত বৃদ্ধাকে রক্ষা করার বা হামলাকারীদের আটকানোর কোনো ন্যূনতম উদ্যোগ নেননি। উল্টে কয়েকজন উৎসাহী মহিলা সেই সময় মোবাইলে ঘটনার লাইভ সম্প্রচার করেন এবং প্রবীণাকে ‘শিশুচোর’ বলে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই হাবড়ার সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ও নাগরিক সমাজ রেলপুলিশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসে বনগাঁ জিআরপি। ভাইরাল ভিডিয়োর সূত্র ধরে আশুতোষ কলোনির বাসিন্দা পিংকি শিকদার নামে এক মহিলাকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে। বনগাঁ জিআরপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিয়ো ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজ আপডেট পেতে দেখতে থাকুন বিএমজি নিউজ বাংলা।